ভোলায় মন্দির স্থাপনের নামে হোমিও চিকিৎসকের জমি দখল

ভোলার কথা
ভোলার কথা সম্পাদক
প্রকাশিত: ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২১

 

ভোলা প্রতিনিধি।।

ভোলার দৌলতখানে মন্দির স্থাপনের নামে এক হোমিও চিকিৎসকের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে ভূমিদস্যু প্রসন্ত হাওলাদার বাহিনী। এসময় তাদের বাঁধাদিলে জমির মালিক মিহির চন্দ্র হাওলাদার (৫৫) ও তার স্ত্রী বিউটি রানী হাওলাদার(৪৫) এর উপর ভূমিদস্যু প্রসন্ত হাওলাদার বাহিনী হামলা চালায়।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের লেজপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়রা আহত মিহির চন্দ্র হাওলাদার ও তার স্ত্রী বিউটি রানী হাওলাদারকে গুরুত্ব আহত আবস্থায় উদ্ধার করে দৌলতখান উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন আছেন।

এ ঘটনায় মিহির চন্দ্র হাওলাদার বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ফলে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বরুপ কান্তি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিহির চন্দ্র হাওলাদার বলেন, আমার দখলীয় জমিতে প্রতিপক্ষ নিখিল হাওলাদাররা জোরপূর্বক মন্দির স্থাপন করে জমি দখল করার চেষ্টা করে আসছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে আমদের দখলীয় জমি থেকে উৎখাত করার জন্য নানা ভাবে হুমকি ধামকী দিয়ে আসছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক মন্দির নির্মাণের চেষ্টা করে প্রসন্ত হাওলাদার, নিখিল হাওলাদার তাতে বাঁধা দিলে ভূমিদস্যু প্রসন্ত হাওলাদার বাহিনী আমাকে দেশীয় ধাড়ালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আমার আত্মচিতকার শুনে স্ত্রী বিউটি রানী হাওলাদার এগিয়ে আসলে তাকেও বেধড়ক মারধর করে প্রসন্ত হাওলাদার বাহিনী।

এ ঘটনায় জমির মালিক মিহির চন্দ্র হাওলাদারের মেয়ে তিথি হাওদার বলেন, আমাদের বাড়ির পাশেই একটি মন্দির থাকা সত্যেও আমাদের জমিতে একই বাড়ির প্রসন্ত হাওলাদার গ্রুপরা জোরপূর্বক মন্দির স্থাপনের নামে জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে। আজ দুপুরে আমাদের জমিতে ৭/৮ জন লোকজন মিলে মন্দিরের নামে টিনের ঘর নির্মান কাজ করছিলো। সেখানে আমার বাবা ও মা গিয়ে বাঁধা দিলে প্রসন্ত হাওলাদার, নিখিল হাওলাদার, প্রসন্ত হাওলাদারের স্ত্রী পরিমিতা হাওলাদার, মুক্তা রানী, কৃষ্ণ হাওলাদাররা তাদের বেধড়ক ভাবে মারেন। এতে আমার বাবা মা গুরুতর আহত হয়।

সরেজমিনে স্থানীয় পিন্টু হাওলাদার বলেন,
দীর্ঘ দিন ধরে উভয়ের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এই জমির প্রকৃত মালিক মিহির চন্দ্র গংরা। স্থানীয় ভূমিদস্যু নিখিল হাওলাদার অন্যর বাড়ির রাস্তায় শিশুদের খেলাধূলার স্থান বন্ধকরে জমি দখলে জন্য পাশেই একটি মন্দির থাকার পরেও জোরপূর্বক আপর একটি মন্দির স্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। শুধু মন্দির নয় এর আগেও বাড়ির সামনে অন্যর জমিতে জোরপূর্বক একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে নিজের নামে প্ররিচালনা করে আসছেন।

এদিকে অভিযুক্ত নিখিল হাওলাদারের সাথে তার ফোন মোবাইল যোগাযোগ করলে তিনি মারধরের বিষয়ে কোন মতামত দিতে রাজি হননি।

এ দিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি গৌরাঙ্গ চন্দ্র দে জানান, দুইপক্ষই আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছে। আমরা উভয়ের কাগজ যাচাই বাছাই করে সঠিক মিমাংসা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমান জানান, এঘটনা উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।