লালমোহন হাসপাতালের জানালা ভাঙা, শীতে কাঁপছেন রোগীরা
লালমোহন প্রতিনিধিঃ
ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙা জানালার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা। নতুন নির্মিত ভবনের ওয়ার্ডে সবগুলো জানালার গ্লাস ভাঙা থাকায় শীতের প্রকোপে রোগীরা বিছানায় শুয়েই ঠা-ার সঙ্গে যুদ্ধ করে দিন-রাত পার করছেন।ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট কিনুন
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমনই করুণ চিত্র দেখা গেছে। ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনে পুরুষ ওয়ার্ডটি স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডে ৯টি কাঁচের জানালা থাকলেও একটিরও গ্লাস অক্ষত নেই। সব জানালার গ্লাস ভাঙা থাকায় পুরো ওয়ার্ডে সারাক্ষণ ঠা-া বাতাস প্রবেশ করছে। এতে শীত আরও বেড়ে গিয়ে রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
ওয়ার্ডটি পুরুষদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও রোগীর চাপের কারণে এখানে শিশুদেরও রাখা হয়। বর্তমানে সেখানে ভর্তি থাকা প্রতিটি রোগী ও তাদের স্বজনরা শীতে কাঁপছেন। গত কয়েক দিনের তীব্র শীতে এমনিতেই সবাই জবুথবু। উপায়ন্তর না পেয়ে রোগীদের স্বজনরা বিছানার চাদর ও পর্দা দিয়ে জানালাগুলো ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন।
লালমোহন ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, ঠা-াজনিত কারণে শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি ছয় দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু চিকিৎসা নিতে এসে এখন আরও বিপাকে পড়েছেন।
তিনি বলেন, নিজের বাড়ির চেয়েও এখানে অবস্থাটা খারাপ। বাড়িতে অন্তত জানালা বন্ধ করা যায়, কিন্তু হাসপাতালে যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে আমরা যাব কোথায়?
এদিকে বদরপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড থেকে নিজের নাতি জোনায়েদকে নিয়ে বুধবার হাসপাতালে আসেন কামাল হোসেন। তিনি জানান, তার নাতি ঠা-াজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে; কিন্তু ভাঙা জানালা দিয়ে ঠা-া বাতাস ঢুকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড থেকে পাঁচ দিন আগে স্বামী আবু তাহেরকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন রহিমা বেগম। তিনিও জানান, ঠা-াজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকা তার স্বামীর কষ্ট এখানে এসে আরও বেড়ে গেছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, নতুন ভবনের এমন বেহাল অবস্থার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত জানালার গ্লাস মেরামত করে রোগীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু মাহমুদ তালহা জানান, বাজেট হলে এগুলো সংস্কার করা হবে। আমরা দ্রুত চেষ্টা করব।

