শিবপুরে সুজন চোরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, সাথে থাকে দেশীয় অস্ত্র

ভোলার কথা
স্টাফ রিপোর্টার সম্পাদক
প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে মো. সুজন (৪০) নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে শতাধিক পরিবারের বাড়িতে মালামাল চুরি করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ওই ইউনিয়নের উত্তর রতনপুর গ্রামে সুজনকে চোর অভিযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে গনস্বাক্ষর নেওয়া হয়। এতে ওই কাগজে প্রায় শতাধিক পরিবারের স্বাক্ষর সংরক্ষিত হয়।

অভিযুক্ত সুজন ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহাজানের ছেলে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুজন চুরির সাথে জড়িত। সুযোগ পেলেই দিনে অথবা রাতের আধারে মানুষের বাড়ি থেকে চুরি করে নিয়ে আসছেন মূল্যবান জিনিসপত্র স্বর্ন অলংকার ও নগদ টাকা। চুরির সময়ে সুজন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে এসব কর্মকান্ড করছেন। ওই গ্রামের মানুষের বাড়ি, দোকানপাট, পানির মটর, টিউবওয়েল থেকে শুরু করে কারেন্টের তার কিছুই রেহাই পাচ্ছে না সুজনের হাত থেকে।

গত কয়েক মাস আগে মোর্শেদ মিয়ার ঘরের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে মটর নিয়ে যায় সুজন। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিবেশীরা সুজনকে দেখে ফেলায় পরে শালিস-বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু অভিযুক্ত পক্ষ শালিস-বৈঠককে পাত্তা না দেওয়ায় মামলা হয় আদালতে। যা এখনো চলমান।

এছাড়াও এলাকার বাইরে অন্যান্য গ্রামে আরো একাধিক ছোট-বড় চুরির অভিযোগ রয়েছে সুজনের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গত ২২ এপ্রিল দিন- দুপুরে চুরির অভিযোগ উঠেছে সুজনের বিরুদ্ধে।

একই এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী আল আমিন ড্রাইভার জানান, আমার গাড়ি চার্য দেওয়ার বৈদ্যুতিক তার দুইবার নিয়ে যায় এই সুজন। একদিন রাত আনুমানিক ৩টায় গাড়ি চার্য দেওয়ার সময় হঠাৎ দেখি সুজন আমার পাশের ঘরের মোবাইল নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে আমি চিৎকার করে তাকে ঘটনা স্থলে দাঁড়িয়ে থাকতে বললেও সে বেড়া টপকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে আশে-পাশের লোকজন জড়ো হলে আমি বিষয়টি তাদের অবহিত করি। এ ঘটনায় গ্রামে একটি শালিস-বৈঠক ডাকা হলেও প্রভাবশালী চোর সুজন তা প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে একাধিকবার তাকে হাতেনাতে ধরলেও উপযুক্ত বিচার না হওয়ায় প্রশাসন ও সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখি আবারো চুরির কাজে লিপ্ত হন সুজন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেই বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেন। সুজনের ভয়ে এলাকার মানুষ তাদের জানমাল নিয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই উপযুক্ত বিচার দাবী করে স্থানীয়রা ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ভোলা নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত সুজনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার বাড়িতে গেলে সুজনের বোন সালমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জমিজমা নিয়ে পুরানো শুত্রুতার জেড়ে মিথ্যা অভিযোগ আনছে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। তার ভাই সুজন এরকম কোন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নেই।