গাছ কাটার অভিযোগে মামলা করায় বোরহানউদ্দিনে কৃষককে মারধর

ভোলার কথা
বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি সম্পাদক
প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২৫

বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধিঃ

বোরহানউদ্দিনের কুতবা ইউনিয়নের তালুকদার বাড়ির কৃষক সিরাজুল ইসলামের বাগানের গাছ কেটে লুট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানায় অভিযোগে ও কোর্টে মামলা করলে প্রতিপক্ষরা কৃষক সিরাজুল ইসলামের রাস্তায় মারধর করে হোন্ডা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে তাকে আশংকজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে অভিযুক্তরা জানায় গাছকে বা কারা কেটেছে এর সাথে কোন সম্পৃক্তা নেই তাদের। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগীরা জানান, বোরহানউদ্দিনের কুতুবা ইউনিয়নের তালুকদার বাড়ির কৃষক সিরাজুল ইসলামের বাড়ির পাশে একটি ১২ শতাংশের বাগান আছে। সেই বাগান থেকে গত ২৪ এপ্রিল সকালে স্থানীয় হাসান ও তানভীর ইবুসহ ১০ থেকে ১২ জন মিলে বাগানে প্রবেশ করে মেহগুনি, রেন্ডি, ১০টি সুপার গাছ কেটে নিয়ে যায়। যার বাজার মূল্য ১ লক্ষ টাকা ২০ বিশ হাজার টাকা। তখন সিরাজুল ইসলাম গাছ কাটতে বাঁধা দিলে তার উপর ওপর চরা হয়। এসময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে মারধর করে। পরে এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ কিংবা মামলা করলে প্রান নাশের হুমকি দেয়। এদিকে এই ঘটনার পরে বোরহানউদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ করলে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভোলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৭ এপ্রিল একটি মামলা করা হয়। এতে ৮জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন, মো: হাসান, সোবহান মাল, ইউসুফ রাঢ়ী, মো: নুর, বাবলা, আমীর হোসেন, সোহেল বাকলাই ও রতন।

কৃষক সিরাজুল ইসলাম ছেলে হাবিবুর রহমান সবুজ বলেন, মামলা করার ৩ দিন পরে আমার বাবা কোর্টে মামলা করার কারনে বোরহানউদ্দিন ছাত্রদলের সভাপতি দানিশের নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে আমার বাবার উপরে খায়ের হাট রাস্তার মাথা এলাকায় বিকালে হামলা করা হয়। এসময় তার হীরো হোন্ডা ছিনতাই করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এসময় আমার বাবার সাথে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এসময় তারা তাকে ব্যাপক মারধরে করে রাস্তায় ফালে রেখে চলে যায়। যাওয়ার সময় মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকী দেয় তারা। এসময় হামলায় অংশ নেয় হাসান, নিবিড়, নক্তিরসহ আরো বেশ কয়েকজন। পরে স্থানীয়রা পরিবারের স্বজনদের খবর দিলে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আমার বাবা বিভিন্ন আঘাত নিয়ে হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি আছে বলে জানান। বর্তমানে আমাদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তবে অভিযুক্ত দানিশ চৌধুরী বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, এই ধরনের ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। রাজনৈতিক ভাবে আমাকে হেও করার জন্য একটি চক্র গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাকে সামাজিক ভাবে হেও করার চেষ্টা করছে। ঘটনাটি সঠিক ভাবে তদন্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বুধবার খায়েরহাট এলাকায় কৃষক সিরাজুল ইসলামের উপর হামলার বিষয়ে কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।

অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে সিরাজুল ইসলাম বাগান থেকে গাছ কেটে নেওয়ার একটি অভিযোগ আছে আমাদের কাছে। সেই অভিযোগে তদন্ত চলমান রয়েছে।তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।