মাদুরো বন্দি হওয়ার পর বিশ্ববাজারে যে প্রভাব পড়ল তেলের দামে

ভোলার কথা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক সম্পাদক
প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ তুলে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরোকে বন্দি করা হয়েছে নিউইয়র্কের এক আটককেন্দ্রে। যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের অভিযোগসহ একাধিক অপরাধের কথা উল্লেখ করে ইতোমধ্যে মামলাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এদিকে মাদুরোর এই পতনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিশ্ববাজারে তেলের দাম সামান্য কমেছে।

অয়েল প্রাইস ডট কমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার ৭৫ সেন্টে নেমেছে। একই দিনে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ ডলার ৩২ সেন্টে। অন্যান্য তেলের দামও কমতির দিকে ছিল।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগের মতো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় এখন আর তেলের বাজার বড়ভাবে নড়াচড়া করে না। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বিনিয়োগকারীরা আগেই সরবরাহ ও চাহিদার তথ্য পেয়ে যান। ফলে বড় সামরিক অভিযানের পরও বাজারে প্রভাব পড়ে খুব অল্প সময়ের জন্য।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবেই হঠাৎ তেলের দাম ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। কারণ বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

এছাড়া, যদিও কাগজে-কলমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত ভেনেজুয়েলার, বাস্তবে বৈশ্বিক বাজারে দেশটির প্রভাব এখন খুবই সীমিত। ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরেই কমেছে। বর্তমানে দৈনিক উৎপাদন সামান্য এক মিলিয়নের বেশি, যার বড় অংশ দেশেই ব্যবহৃত হয়। ফলে, বিশ্ববাজারে দেশটির তেল রপ্তানি মোট সরবরাহের ১ শতাংশেরও কম। এ কারণে মাদুরোকে তুলে নেওয়ার মতো বড় রাজনৈতিক ঘটনার পরও তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালেও ২০২৩ সাল থেকে দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। এর অন্যতম কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক চীনের অর্থনৈতিক গতি কমে যাওয়া। ফলে, তেলের চাহিদাও কমেছে।