জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে টিকে গেলো একটি পরিবার

স্টাফ রিপোর্টারঃ
দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ, মনমালিন্য ও একে অপরকে অবিশ্বাসের মধ্যদিয়ে চলছে সংসার। স্বামী-স্ত্রীর সংসারে অশান্তি দিনে দিনে বেড়েই চলছে। ১ ছেলে ও ২ মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে স্ত্রীর আপ্রাণ চেষ্টা। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও যখন দেখলেন আর পারছেন তখন সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য দ্বারস্থ হলেন ভোলা জেলা প্রশাসক মোঃ আজাদ জাহান এর। স্ত্রীর ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মো: আজাদ জাহান উভয়কে তার কার্যালয়ে ডেকে আনলেন। তিনি উভয় পক্ষের কথা শুনলেন এবং ৩ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামী-স্ত্রীকে বুজিয়ে এক করে দিলেন। জেলা প্রশাসকের অসম্ভব সুন্দর ও বিচক্ষণতায় টিকে গেলো ওই দম্পত্তির সংসার।
জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতার কারণে প্রায় ভেঙ্গে যাওয়া সংসার আগামীতে সুন্দর ও শান্তিময় হবে বলে আশ্বস্ত করেন স্বামী-স্ত্রী উভয়।
সূত্রে জানা গেছে, ভোলার দৌলতখানের আলাউদ্দিন ও আয়শা বেগমের দীর্ঘ ১২ বছর আগে বিবাহ হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে ১ ছেলে ও ২ মেয়ের জন্ম হয়। বিয়ের প্রথম দিকে সংসার সুখে-শান্তিতে চললেও এক সময়ে এসে তাদের পারিবারিক কলহ, মনোমালিন্য, সন্দেহ সৃষ্টি হয়। সংসারে যেনো অশান্তি লেগেই থাকতো। দু’জন দুজনকে সন্দেহ করে। অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌছে যায়। কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্ত্রী আয়শা বেগম আপ্রাণ চেষ্টা করেন সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য। সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যখন আর কোন কূল কিনারা দেখছেন না, যখন সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম ঠিক তখনই আয়শা বেগম ভোলার জেলা প্রশাসক মোঃ আজাদ জাহানের সরণাপন্ন হলেন। সংসার যাতে টিকিয়ে রাখা যায় তাই তিনি জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিলেন। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ আজাদ জাহান স্বামী-স্ত্রীকে তার কার্যালয়ে ডাকলেন। বুধবার (১৫ জানুয়ারী) আলাউদ্দিন ও আয়শা বেগম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হলে জেলা প্রশাসক মোঃ আজাদ জাহান উভয় পক্ষের কথা শুনেন। দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা করে ৩ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আন্তরিকতা ও বিচক্ষণতার সাথে স্বামী-স্ত্রীকে মিলিয়ে দিলেন। পরে তাদের দুজন দুজনের প্রতি মহব্বত, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা যাতে সৃষ্টি হয় সেই পরামর্শ দিলেন। সুখে-শান্তিতে সংসার করার জন্য উপদেশ দিলেন এবং ভবিষ্যতে যাতে কোন ধরণের সমস্যা সৃষ্টি না হয় সে জন্য দু’জনের কাছ থেকে লিখিত রাখলেন। জেলা প্রশাসকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রায় ভেঙ্গে যাওয়া থেকে রক্ষা পেলো একটি পরিবার।
আলাউদ্দিন বলেন, আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমলিন্য ও ভুল বুঝাবুঝি চলছিলো। জেলা প্রশাসক স্যার আমাদেরকে মিলিয়ে দিয়েছে। এখন আর আমাদের মধ্যে কোন মনোমালিন্য ও ভুল বুঝাবুঝি থাকবে না। আগামী দিনগুলোতে আমরা দুজন মিলে সুখে শান্তিতে সংসার করবো।
আয়শা বেগম বলেন, আমরা দুজন একজন আরেক জনের প্রতি সন্দেহ করতাম। সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। জেলা প্রশাসক স্যারের সহযোগীতা চইলে তিনি আমাদেরকে ডেকে মিলিয়ে দিয়েছেন। আমরা এখন সুখের সংসার করবো। আমাদের মধ্যে আর ঝগড়া ও ভুল বুঝাবুঝি থাকবে না।
জেলা প্রশাসক মোঃ আজাদ জাহান বলেন, আয়শা বেগম তার সংসারের অশান্তি ও সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য সহযোগীতা চেয়ে আবেদন করলেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বামী-স্ত্রীকে এনে উভয়ের কথা শুনেছি। পরে তাদের ৩ সন্তান এর সুন্দর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাদেরকে মিলিয়ে দিয়েছি। দুজনে যাতে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও মহব্বত সৃষ্টি হয় এবং সংসার যাতে সুখে-শান্তিতে করতে পারে সে জন্য পরামর্শ দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে সমান্য ভুল বুঝাবুঝির কারণে অনেক সংসার ভেঙ্গে যায়। এতে দুটি পরিবার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সন্তানদের ভবিষ্যত নষ্ট হয়। তাই চেষ্টা করেছি এই দম্পত্তিকে মিলিয়ে দিয়ে তারা সংসার যাতে সুখে শান্তিতে করতে পারে। আশা করি তারা আগামী দিনগুলোতে সুন্দরভাবে সুখের সংসার করবে। তাদের জন্য শুভ কামনা রইলো।