যে খেলায় বিভ্রান্ত ভোলার ব্যবসায়ীরা

ভোলার কথা
স্টাফ রিপোর্টার সম্পাদক
প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টারঃ

“গত পনেরো বছরে আমার বেতন অন্তত ডবল (দ্বিগুণ) বেড়েছে। এতে তো আমার দিন ভালো যাওয়ার কথা। কিন্তু না, অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ। বেতন এক টাকা বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে পাঁচ টাকা। আগে মাসের খরচ চালিয়ে পকেটে কিছু থাকতো। এখন বেতনেই চলে না,” বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তানিন আহমেদ বেশ আক্ষেপের স্বরে বলছিলেন তার পরিস্থিতির কথা।

দ্রব্যমূল্যে ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে তার মতো মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ যতোটা না ভুগছে তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর।

রানী গত চার মাস ধরে লালমোহনের এলাকার কয়েকটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করছেন। বাসায় কাজ নেয়ার একটা বড় কারণ হিসেবে তিনি জানান এতে তার দুই বেলার খাবারের যোগান হয়ে যায়।

“বাজারে গেলে পাঁচশ টাকা নিয়ে গেসি, ঠিক মতো দুই বেলার বাজার করতে পারি নাই। বাচ্চা মাংস খাইতে চায়, দিতে পারি না। সরকার তো বড়লোকের জন্য, আমাদের জন্য না,” বলছিলেন রানী।

সাধারণ মানুষের এই হাহাকারে স্পষ্ট হয় যে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য কতোটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

দলটি ২০০৯ সালের শুরুতে ক্ষমতাসীন হবার পর থেকে পরপর তিন মেয়াদে গত ১৫ বছর সরকার পরিচালনা করে আসছিলো।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো দীর্ঘ সময় একটানা আর কোনো দলের ক্ষমতায় থাকার নজির নেই।

প্রতিবার নির্বাচনি ইশতেহারে জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার অঙ্গীকার করা হলেও এই দেড় দশকের শাসনামলে বেশিরভাগ পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের তথ্য পর্যালোচনা ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) নিজেদের উদ্যোগে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে করা সাম্প্রতিক এক জরিপ থেকে জানা যায়, খাদ্য মূল্যস্ফীতি চলতি বছর রেকর্ড ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির তথ্যমতে, দেশে গত পাঁচ বছরে শুধু ভোগ্যপণ্যের দাম ৩১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

তবে পন্যের দাম বৃদ্ধি এতোটা পেয়েছে যে রানী মানুষতো দূরের কথা মধ্যবিত্তদের এখন সংসার চালাতে হিমশিম খেটে হচ্ছে। কারণ, বেতনের থেকে পন্যের দাম বেশী। যার ফলে কেউ কেউ জরিয়ে যাচ্ছে নানা রকম অনৈতিক কাজে।

অনেক অভিভাবক তাদের বাচ্চাদের লেখা-পড়া বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। যার ফলে শিশু শ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার হার কমছে। এর ফলে জাতির মেরুদণ্ড নষ্ট হচ্ছে।

পন্যের দাম ঊর্ধ্বগতির ফলে সমস্যার সমাধানে অন্যায় কাজ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এসব দিক বিবেচনা করে ছাত্র সমন্বয়কারী চেষ্টা করছে পন্যের দাম নিন্মগতির।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকেই তারই কার্যক্রম সারা দেশের সাথে ভোলায় চলছে।

এদিকে সমন্বয়কারীরা দৈনিক প্রথম বেলা ও দৈনিক সংবাদ দিগন্তের সাংবাদিকদের জানান, আমরা সেবামূলক কাজ হিসেবে-
১।রাস্তা মনিটরিং, ট্রাফিকিং এ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা করা।
২।বাজার মনিটরিং এবং হাসপাতাল সহ বৈষম্য কিংবা অসহিষ্ণুতার সম্মুখ হলে তা শক্ত হাতে রোধ এবং আগামীর দিকনির্দেশনা প্রদান করা।
৩।যেকোনো ধরনের অরাজকতা, চাঁদাবাজির খবর পেলে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও সাধারণ শিক্ষার্থী, জনতাকে সঙ্গে নিয়ে শক্ত হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

উল্লেখ্য, আগামীকাল সকলেই সর্বনিম্ন ৩ জন/ সর্বোচ্চ ৮+ জনের সংঘবদ্ধ গ্রুপ করবেন এবং দায়িত্বরত সকলের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সেবামূলক কাজে সংযুক্ত হবেন।

সারাদেশের ন্যায় ভোলার সমন্বয়কারীরা বাজার মনিটরিং শুরু করেছে, এপ্রসঙ্গে সু-শাসনের জন্য নাগরিক, সুজন’র দৌলতখান শাখার সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদ বলেন ছাত্ররা জনগণের মধ্যে আশার আলো দেখতে সক্ষম হয়েছে এবং প্রমাণ করতে পেরেছে যে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে জনগণ উপকৃত হবে, ইনশাআল্লাহ। দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারন হচ্ছে পথে পথে চাঁদাবাজি ও মধ্যস্থতা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং অতিরিক্ত লাভের হার, তাই এখন থেকেই নতুন সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ্যাকোপেনি ফর ডিভলপমেন্ট এর সমন্বয়ক মেহেদী সবুজ জানান,

দ্রব্যমূল্য বাজারে বেড়ে যাওয়ার কারণে যে হাহাকাররা, এটা প্রতিটি খাদ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়। বাজারে নির্দিষ্ট কিছু সময় নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যায়, কোন একটি পণ্যের দাম চাহিদা থেকে বেড়ে গেলে তার তুলনায় সরবরাহ কম হলে।এর থেকে বের হওয়ার উপায় যে কোন পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো এবং পরিবহন খরচ কমানো জ্বালানিতেলের দাম নিয়ন্ত্রণের রাখা। আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এজন্য বাজার মনিটরিং করা। আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য বেশি হলে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া।

এদিকে সরজমিন গেলে দেখা যায়, খুচরো ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মূখে।

চরফ্যাশনে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানায়,
গত কয়েক বছর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই মন্দা, গেল ঈদ থেকে শুরু এখন প্রযন্ত ক্রেতার পরিমান কম। এতো দামে পন্য ক্রয় করতে কাস্টমারদের কষ্ট হচ্ছে।

লালমোহনের ব্যবসায়ীরা জানায়, এখানকার রাস্তাঘাট তেমন একটা ভালনা। যার ফলে পন্য পরিবহনের সময় অনেক পন্য নষ্ট হয়। অপর দিকে আড়ৎদার চড়া দামে পন্য বিক্রি করছে। হঠাৎ করে দাম কমে গেলে আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে।
সরকারের আছে অনুরোধ আগে আড়ৎদারদের পন্যে মনিটরিং করা। তার কম দামে পন্য দিলে আমরা অবস্যই কম দামে পন্য বিক্রি করব।

বোরহানউদ্দিনের ব্যবসায়ীরা জানান,
ব্যবসা হালাল, আমরা চাই হালাল ব্যবসা করতে। আমরা কখনই দ্বিগুণ দামে পন্য বিক্রি করবনা। সরকারে নির্ধারিত দামেই বিক্রি করব।

দৌলতখানের ব্যবসায়ীরা জানান,
পল্ট্রি ও খামারী ব্যবসায়ীরা জানায়- আমাদের মুরগী, গরু, ছাগলে দাম বৃদ্ধি পিছনে রয়েছে খাদ্য ও ঔষধের দাম বৃদ্ধি।
যার ফলে আমরা উদ্যোক্তারা নানা সমস্যা পড়তে হচ্ছে। আমরা সঠিক সময় চিকিৎসা পাচ্ছিনা। যার ফলে প্রজনন বৃদ্ধি পেলেও টিকে থাকে ১০০% এর মধ্যে ৭০%। তাহলে আমরা কিভাবে দাম কমাব। ইতোমধ্যে অনেক খামারীরা পল্ট্রি ও পশু পালন ছেড়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে কতৃপক্ষের সঠিক ও সুষ্ঠু তদারকি কামনা করছি। না হলে আমাদের ব্যবসা ভেঙে পড়বে।

এদিকে তেল ব্যবসায়ীরা জানায়, ডিপো থেকে ডিলারের তেলের ক্রয় মূল্য বেশী। পাশাপাশি মানও ভাল। যার ফলে অনেক ব্যবসায়ীরা সরাসরি ভোলা থেকে তেল আনতে হয়। এতেও খরচ বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় বাজারে ডিপোর তেল নিয়মিত আসা ও ভাল তেল আনার ব্যপারে প্রশাসনকে সঠিক তদারকি করতে হবে। তবেই তারা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।